Dhaka ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এখনও অ্যাওয়ার্ড না পেলে বাড়ি ফিরে কেঁদে ফেলি : ঋতুপর্ণা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
  • ৩ Time View

এরই মাঝে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

কেমন আছেন জানতে চাইতেই ঋতুপর্ণা বললেন, আপাতত খুব চিন্তায় আছি। রাতে ঘুম আসছে না। সামনেই ‘পুরাতন’ মুক্তি যে।

এখনও ছবি মুক্তির আগে একই রকম টেনশন কাজ করে তাহলে? অভিনেত্রীর কথায়, ‘এখন আরও বেশি করে। সেটা আমি কাউকে বুঝতে দিই না। আসলে কোন কাজটা হলো আর কোনটা মিস করে গেলাম, এই ভাবতে-ভাবতে দিন-রাত এক হয়ে যাচ্ছে। এটা শুধু প্রযোজনা বলে নয়, আমি যেখানে অভিনয় করি, সেখানেও একই রকমের টেনশন হয়।’

অভিনেত্রী ঠিক কতটা আবেগপ্রবণ? ঋতুপর্ণার কথায় ‘এখনও কোনও ডিসার্ভিং অ্যাওয়ার্ড না পেলে আমি বাড়ি ফিরে কেঁদে ফেলি। কিছুদিন আগেই তেমনটা হয়েছে। ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। অন্য কেউ অ্যাওয়ার্ডটা পেয়েছেন বলে নয়। তবে আমার মনে হয়েছিল কাজের বিচারে আমি অ্যাওয়ার্ডটা পাওয়ার যোগ্য। কাছের অনেকেই বোঝান, তবে আমি নিজেকে একেবারেই বদলে ফেলতে পারিনি। আমি অন্যদের মতো হতে পারি না। ওটাই আমার দুর্বলতা বা হয়তো আমার শক্তি।’

ইন্ডাস্ট্রির পুরাতন ও নতুনদের মধ্যে কি সংঘাত চলে? কাজের মাধ্যমে মেলবন্ধনের অভিজ্ঞতাই বা কেমন? উত্তরে তিনি বলেন, পুরাতন বা নতুন দু’ক্ষেত্রই ভালো এবং খারাপ। আসলে আমি একজন অপটিমিস্টিক মানুষ। ভালো ও খারাপকে সমান্তরাল ভাবে নিতে পারি। তবে এখন তো আর কেউ সাজেশন নেন না। তবু যদি আমার পরামর্শে কারও কিছু ভালো হয়, সেই ভেবে এগিয়ে যাই। কেউ নিতে পারলে ভালো, না নিতে পারলে সরে আসি।

কিছুদিন আগে মাকে হারিয়েছেন অভিনেত্রী, পরবর্তী ছবি ‘পুরাতন’ মা ও মেয়ের গল্পই বলবে। সে প্রসঙ্গে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর সংযোজন, ‘যখন ‘পুরাতন’-এর শুটিং করছিলাম, তখন মা ছিলেন। এই ছবিটা মাকে দেখানোর ইচ্ছে ছিল, তা আর হলো কই! হাজার চেষ্টা করলেও আর তো ফিরে পাব না।’

খানিকটা আবেগে ভেসে অভিনেত্রী বললেন, ‘আজও মায়ের ভয়েস নোটগুলো খুলে শুনি’। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বললেন, ‘আসলে আমি নিজেই ভীষণ প্রাচীনপন্থী। আঁকড়ে বাঁচতে ভালোবাসি। অনেক প্রতারিত হয়েছি, কিন্তু নিজের ভিতরটাকে বদলাব কী করে?’

এই কঠিন সময়ে ছেলে অঙ্কন তাকে সামলে রেখেছেন জানান ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে তৃষাণজিৎ-র বড় পর্দায় অভিষেক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। অঙ্কনের অভিষেকের প্রস্তুতিও কি চলছে?

ঋতুপর্ণা বললেন, ‘ওদের নিজেদের সিদ্ধান্ত আছে। এখন ছেলে আমার সঙ্গে নানা অনুষ্ঠানে যায়। হয়তো মায়ের জগতটাতে দেখতে-বুঝতে চাইছে। তবে ওর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনও আমার কাছে স্পষ্ট নয়। আর আমার মেয়ে ভীষণ ভালো নাচে। ও আমার স্টাইল স্টেটমেন্টও পছন্দ করে না। তবে আমার মনে হয় না, ওরা আমাদের পেশার এতটা পরিশ্রম করতে পারবে। আমার মনে হয়, ওরা অ্যাকাডেমিকালি এগোতে চাইবে।’

‘পুরাতন’ ছবির হাত ধরে শর্মিলা ঠাকুরের বাংলা ছবিতে দীর্ঘদিন পরে প্রত্যাবর্তন নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিলই। উনি নিজেই বলেছিলেন, বাংলায় কাজ করতে চান। আমিও সঠিক স্ক্রিপ্টের অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে ব্যাটে-বলে এক হয়েছে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Raj Kalam

এখনও অ্যাওয়ার্ড না পেলে বাড়ি ফিরে কেঁদে ফেলি : ঋতুপর্ণা

Update Time : ০৮:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫

এরই মাঝে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

কেমন আছেন জানতে চাইতেই ঋতুপর্ণা বললেন, আপাতত খুব চিন্তায় আছি। রাতে ঘুম আসছে না। সামনেই ‘পুরাতন’ মুক্তি যে।

এখনও ছবি মুক্তির আগে একই রকম টেনশন কাজ করে তাহলে? অভিনেত্রীর কথায়, ‘এখন আরও বেশি করে। সেটা আমি কাউকে বুঝতে দিই না। আসলে কোন কাজটা হলো আর কোনটা মিস করে গেলাম, এই ভাবতে-ভাবতে দিন-রাত এক হয়ে যাচ্ছে। এটা শুধু প্রযোজনা বলে নয়, আমি যেখানে অভিনয় করি, সেখানেও একই রকমের টেনশন হয়।’

অভিনেত্রী ঠিক কতটা আবেগপ্রবণ? ঋতুপর্ণার কথায় ‘এখনও কোনও ডিসার্ভিং অ্যাওয়ার্ড না পেলে আমি বাড়ি ফিরে কেঁদে ফেলি। কিছুদিন আগেই তেমনটা হয়েছে। ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। অন্য কেউ অ্যাওয়ার্ডটা পেয়েছেন বলে নয়। তবে আমার মনে হয়েছিল কাজের বিচারে আমি অ্যাওয়ার্ডটা পাওয়ার যোগ্য। কাছের অনেকেই বোঝান, তবে আমি নিজেকে একেবারেই বদলে ফেলতে পারিনি। আমি অন্যদের মতো হতে পারি না। ওটাই আমার দুর্বলতা বা হয়তো আমার শক্তি।’

ইন্ডাস্ট্রির পুরাতন ও নতুনদের মধ্যে কি সংঘাত চলে? কাজের মাধ্যমে মেলবন্ধনের অভিজ্ঞতাই বা কেমন? উত্তরে তিনি বলেন, পুরাতন বা নতুন দু’ক্ষেত্রই ভালো এবং খারাপ। আসলে আমি একজন অপটিমিস্টিক মানুষ। ভালো ও খারাপকে সমান্তরাল ভাবে নিতে পারি। তবে এখন তো আর কেউ সাজেশন নেন না। তবু যদি আমার পরামর্শে কারও কিছু ভালো হয়, সেই ভেবে এগিয়ে যাই। কেউ নিতে পারলে ভালো, না নিতে পারলে সরে আসি।

কিছুদিন আগে মাকে হারিয়েছেন অভিনেত্রী, পরবর্তী ছবি ‘পুরাতন’ মা ও মেয়ের গল্পই বলবে। সে প্রসঙ্গে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর সংযোজন, ‘যখন ‘পুরাতন’-এর শুটিং করছিলাম, তখন মা ছিলেন। এই ছবিটা মাকে দেখানোর ইচ্ছে ছিল, তা আর হলো কই! হাজার চেষ্টা করলেও আর তো ফিরে পাব না।’

খানিকটা আবেগে ভেসে অভিনেত্রী বললেন, ‘আজও মায়ের ভয়েস নোটগুলো খুলে শুনি’। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বললেন, ‘আসলে আমি নিজেই ভীষণ প্রাচীনপন্থী। আঁকড়ে বাঁচতে ভালোবাসি। অনেক প্রতারিত হয়েছি, কিন্তু নিজের ভিতরটাকে বদলাব কী করে?’

এই কঠিন সময়ে ছেলে অঙ্কন তাকে সামলে রেখেছেন জানান ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে তৃষাণজিৎ-র বড় পর্দায় অভিষেক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। অঙ্কনের অভিষেকের প্রস্তুতিও কি চলছে?

ঋতুপর্ণা বললেন, ‘ওদের নিজেদের সিদ্ধান্ত আছে। এখন ছেলে আমার সঙ্গে নানা অনুষ্ঠানে যায়। হয়তো মায়ের জগতটাতে দেখতে-বুঝতে চাইছে। তবে ওর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনও আমার কাছে স্পষ্ট নয়। আর আমার মেয়ে ভীষণ ভালো নাচে। ও আমার স্টাইল স্টেটমেন্টও পছন্দ করে না। তবে আমার মনে হয় না, ওরা আমাদের পেশার এতটা পরিশ্রম করতে পারবে। আমার মনে হয়, ওরা অ্যাকাডেমিকালি এগোতে চাইবে।’

‘পুরাতন’ ছবির হাত ধরে শর্মিলা ঠাকুরের বাংলা ছবিতে দীর্ঘদিন পরে প্রত্যাবর্তন নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিলই। উনি নিজেই বলেছিলেন, বাংলায় কাজ করতে চান। আমিও সঠিক স্ক্রিপ্টের অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে ব্যাটে-বলে এক হয়েছে।’