Dhaka ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে মৃত্যু বেড়ে ফায়ার সার্ভিসের ৯ কর্মীসহ ৪৫ জন নিহত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুন ২০২২
  • ৪৮ Time View

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। শনিবার দিনগত রাতে লাগা আগুন এখনও জ্বলছে। কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছেনা। এসময় বিস্ফোরণও ঘটে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ৯ কর্মীসহ ৪৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, কন্টেইনারে রাসায়নিক পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্ফোরণ ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার বেসরকারি বিএম কন্টেইনার ডিপোতে শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে রাতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে ১৬ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। রাতে আগুন লাগার পর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে সেখানে। এতে ঘটনাস্থল থেকে আশপাশের অন্তত চার কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। বাড়িঘরের জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৩২টি ইউনিট। তাদের সাথে যোগ দেয় সেনাবাহিনীর একটি দল। এছাড়া ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ২০ জনের একটি বিশেষ দল যাচ্ছে। কন্টেইনারে রাসায়নিক পদার্থ থাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। এজন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ৯ জন কর্মী রয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা উদ্ধারকর্মীদের। প্রায় দুই শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম সিএমএইচসহ আশেপাশের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ভর্তি করা হয়। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় চট্টগ্রাম মেডিকেলের চিকিৎসকদের। আহতদের রক্ত দিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ দূর- দূরান্ত থেকে এগিয়ে আসে সাধারণ মানুষ।  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গুরুতর অবস্থায় ২৭ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের উদ্ধার কাজে ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Raj Kalam

সীতাকুণ্ডে মৃত্যু বেড়ে ফায়ার সার্ভিসের ৯ কর্মীসহ ৪৫ জন নিহত

Update Time : ০৩:১২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুন ২০২২

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। শনিবার দিনগত রাতে লাগা আগুন এখনও জ্বলছে। কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছেনা। এসময় বিস্ফোরণও ঘটে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ৯ কর্মীসহ ৪৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক মানুষ।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, কন্টেইনারে রাসায়নিক পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্ফোরণ ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার বেসরকারি বিএম কন্টেইনার ডিপোতে শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে রাতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে ১৬ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। রাতে আগুন লাগার পর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে সেখানে। এতে ঘটনাস্থল থেকে আশপাশের অন্তত চার কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। বাড়িঘরের জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৩২টি ইউনিট। তাদের সাথে যোগ দেয় সেনাবাহিনীর একটি দল। এছাড়া ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ২০ জনের একটি বিশেষ দল যাচ্ছে। কন্টেইনারে রাসায়নিক পদার্থ থাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। এজন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ৯ জন কর্মী রয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা উদ্ধারকর্মীদের। প্রায় দুই শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম সিএমএইচসহ আশেপাশের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ভর্তি করা হয়। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় চট্টগ্রাম মেডিকেলের চিকিৎসকদের। আহতদের রক্ত দিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ দূর- দূরান্ত থেকে এগিয়ে আসে সাধারণ মানুষ।  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গুরুতর অবস্থায় ২৭ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের উদ্ধার কাজে ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন।