Dhaka ০৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সিংড়ায় এসিল্যান্ড না থাকায় ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৩:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০
  • ৩৮৫ Time View

 

সিংড়া থেকে আশরাফুল ইসলাম সুৃমন:

নাটোরের সিংড়া উপজেলা ভূমি অফিসে ১ বছর ধরে এসিল্যান্ড না থাকায় ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অন্য দিকে ভূমি অফিস ও সাব-রেজিষ্টার অফিস মিলে মাসে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

উপজেলা ভূমি অফিস সুত্রে জানা যায়, গত ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা হিসেবে বিপুল কুমার যোগদান করেন এবং ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করে বদলী হয়ে চলে যান। এর পর আর কোন এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার যে যখন আসছেন দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমান অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ নাসরিন বানু। তবে সপ্তাহে একদিনও ভূমি অফিসে বসার সময় পান না বলে এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ভূমি সেবা গ্রহীতারা।

১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন মিলে ৪৬৫ মৌজার বৃহত্তম এই উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ টি ই-নামজারী জমা পড়ে। বিচারাধীন রয়েছে প্রায় ৩ হাজার মিসকেস। র্দীঘ ১ বছরেও কাজ না পাওয়ায় অফিসের বারান্দায় ঘুরপাক খাচ্ছেন কয়েক হাজার ভুক্তভোগী কৃষক।

উপজেলার মহিষমারী গ্রামের কৃষক আলহাজ লোকমান হোসেন বলেন, আমি আজ ৮ মাস ধরে জমির খারিজের জন্য ঘুরতেছি। এসিল্যান্ড না থাকার কারণে খারিজের কাগজ আজও পেলাম না, তাই বাড়ি ফিরে যচ্ছি।
জোড় মল্লিক গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, আমার জমির মিসকেস মামলা দুপক্ষের মধ্যে ৩ মাস আগে আপোস হয়ে গেছে কিন্তু স্যারের একটা সই (স্বাক্ষর) হচ্ছেনা বলে আমি মিসকেস রায়ের কাগজ পাচ্ছিনা। ইউএনও স্যার অফিসে কখন আসবেন কখন বসবেন এই অপেক্ষায় আমাদের ভোগান্তির শেষ নাই।

ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা জোড় মল্লিক গ্রামের আনোয়ার হোসেন নামের আরেক ভুক্তভোগী কৃষক বলেন, দীর্ঘ দিনে এসিল্যান্ড স্যার না থাকায় জনগন সঠিক সময়ে ভূমি সেবা পাচ্ছেন না। জনগণ যাতে সেবা পায় এজন্য তিনি জরুরী ভিত্তিতে এসিল্যান্ড নিয়োগের দাবি জানান।

উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ১ বছরের বেশি সময় ধরে এই উপজেলায় সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নেই। এতে জনগণ অনেক হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেই সাথে সরকার বঞ্চিত হচ্ছেন রাজস্ব আয়। নামজারী না হওয়ার কারণে সিংড়া সাব রেজিষ্টার অফিসে রেজিষ্টার সংক্রান্ত বিষয় গুলো অনেকাংশে কমে যাচ্ছে। যার কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

সিংড়া উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, সিংড়া উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের এসিল্যান্ড মহোদয়ের পোষ্টিং নেই। এখন অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ নাসরিন বানু। কিন্তু উনার একার পক্ষে দুই দপ্তরের কাজ করা নিয়ে আমাদের কাজ অনেক বিলম্ব হচ্ছে। এখানে মিসকেস আছে,খারিজ আছে। এই কাজ গুলো সঠিক সময়ে হচ্ছেনা।

উপজেলায় ৪৬৫ টি মৌজার খারিজ, মিসকেস সহ নানান ভূমি সেবা থেকে কিছুটা হলেও জনসাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরাও কাজে স্বচ্ছতা আনতে পারছিনা। এসিল্যাল্ড স্যার আসলে আমাদেরও কাজের স্বচ্ছতা ফিরে আসবে।

সিংড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, আমাদের সিংড়া উপজেলা ৫২৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে বৃহত্তম এই উপজেলায় দীর্ঘ দিন ধরে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় ভূমি সেবার মত গুরুত্বপুর্ণ কাজের সেবা থেকে শুধু সাধারণ মানুষ বঞ্চিতই হচ্ছেন না ভোগান্তিরও শিকার হচ্ছেন।

নাটোর জেলার আর কোন উপজেলাতে এমন অনুপস্থিত দেখি নাই। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধতন মহলের নিকট দ্রুত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Raj Kalam

সিংড়ায় এসিল্যান্ড না থাকায় ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

Update Time : ০৬:৪৩:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০

 

সিংড়া থেকে আশরাফুল ইসলাম সুৃমন:

নাটোরের সিংড়া উপজেলা ভূমি অফিসে ১ বছর ধরে এসিল্যান্ড না থাকায় ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অন্য দিকে ভূমি অফিস ও সাব-রেজিষ্টার অফিস মিলে মাসে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

উপজেলা ভূমি অফিস সুত্রে জানা যায়, গত ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা হিসেবে বিপুল কুমার যোগদান করেন এবং ২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করে বদলী হয়ে চলে যান। এর পর আর কোন এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার যে যখন আসছেন দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমান অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ নাসরিন বানু। তবে সপ্তাহে একদিনও ভূমি অফিসে বসার সময় পান না বলে এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ভূমি সেবা গ্রহীতারা।

১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন মিলে ৪৬৫ মৌজার বৃহত্তম এই উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ টি ই-নামজারী জমা পড়ে। বিচারাধীন রয়েছে প্রায় ৩ হাজার মিসকেস। র্দীঘ ১ বছরেও কাজ না পাওয়ায় অফিসের বারান্দায় ঘুরপাক খাচ্ছেন কয়েক হাজার ভুক্তভোগী কৃষক।

উপজেলার মহিষমারী গ্রামের কৃষক আলহাজ লোকমান হোসেন বলেন, আমি আজ ৮ মাস ধরে জমির খারিজের জন্য ঘুরতেছি। এসিল্যান্ড না থাকার কারণে খারিজের কাগজ আজও পেলাম না, তাই বাড়ি ফিরে যচ্ছি।
জোড় মল্লিক গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, আমার জমির মিসকেস মামলা দুপক্ষের মধ্যে ৩ মাস আগে আপোস হয়ে গেছে কিন্তু স্যারের একটা সই (স্বাক্ষর) হচ্ছেনা বলে আমি মিসকেস রায়ের কাগজ পাচ্ছিনা। ইউএনও স্যার অফিসে কখন আসবেন কখন বসবেন এই অপেক্ষায় আমাদের ভোগান্তির শেষ নাই।

ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা জোড় মল্লিক গ্রামের আনোয়ার হোসেন নামের আরেক ভুক্তভোগী কৃষক বলেন, দীর্ঘ দিনে এসিল্যান্ড স্যার না থাকায় জনগন সঠিক সময়ে ভূমি সেবা পাচ্ছেন না। জনগণ যাতে সেবা পায় এজন্য তিনি জরুরী ভিত্তিতে এসিল্যান্ড নিয়োগের দাবি জানান।

উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ১ বছরের বেশি সময় ধরে এই উপজেলায় সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নেই। এতে জনগণ অনেক হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেই সাথে সরকার বঞ্চিত হচ্ছেন রাজস্ব আয়। নামজারী না হওয়ার কারণে সিংড়া সাব রেজিষ্টার অফিসে রেজিষ্টার সংক্রান্ত বিষয় গুলো অনেকাংশে কমে যাচ্ছে। যার কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

সিংড়া উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, সিংড়া উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের এসিল্যান্ড মহোদয়ের পোষ্টিং নেই। এখন অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ নাসরিন বানু। কিন্তু উনার একার পক্ষে দুই দপ্তরের কাজ করা নিয়ে আমাদের কাজ অনেক বিলম্ব হচ্ছে। এখানে মিসকেস আছে,খারিজ আছে। এই কাজ গুলো সঠিক সময়ে হচ্ছেনা।

উপজেলায় ৪৬৫ টি মৌজার খারিজ, মিসকেস সহ নানান ভূমি সেবা থেকে কিছুটা হলেও জনসাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরাও কাজে স্বচ্ছতা আনতে পারছিনা। এসিল্যাল্ড স্যার আসলে আমাদেরও কাজের স্বচ্ছতা ফিরে আসবে।

সিংড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, আমাদের সিংড়া উপজেলা ৫২৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে বৃহত্তম এই উপজেলায় দীর্ঘ দিন ধরে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় ভূমি সেবার মত গুরুত্বপুর্ণ কাজের সেবা থেকে শুধু সাধারণ মানুষ বঞ্চিতই হচ্ছেন না ভোগান্তিরও শিকার হচ্ছেন।

নাটোর জেলার আর কোন উপজেলাতে এমন অনুপস্থিত দেখি নাই। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধতন মহলের নিকট দ্রুত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান।