তপনকান্তি মন্ডল, বিশেষ প্রতিনিধি:
পশ্চিম বঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার বিদ্যানগরে অসংখ্য অনুরাগীকে সামনে রেখে মোহন বাগান দিবস পালন করা হলো “বিদ্যানগর মেরিনার্স”-এর উদ্যোগে।
পরাধীন ভারতবর্ষে ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় একটি স্থায়ী ফুটবল সংস্থা গড়ে ওঠে। এই সংস্থার নাম ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা সংক্ষেপে আই,এফ ,এ। এই সংগঠন ঠিক করে পরের বছর অর্থাৎ ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে আই, এফ , এ, নামেই একটি শিল্ড প্রতিযোগিতা মূলক খেলার আসর বসাবে । এই বছর ভারতে প্রথম বড় ধরণের ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হল । এই প্রতিযোগিতায় প্রধানত পরাধীন ভারতবর্ষের ইংরেজ সেনাবাহিনীর দল গুলি অংশগ্রহণ করতে পারতো । স্বদেশী দলগুলির যোগ্যতা থাকলেও অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হতো না। অবশেষে ১৯১১ সালে এল সেই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ ।ইংরেজ সেনাবাহিনীর দল ইস্ট ইয়র্ক-কে ২-১ গোলে পরাজিত করে মোহনবাগান শিল্ড জয় করল । ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসে শুরু হলো নতুন অধ্যায় । ঊনত্রিশে জুলাই ১৯১১ সালের এই দিনটি স্মরণে রেখে মোহনবাগান দিবস হিসেবে পালন করা হয় ।.
বিদ্যানগর মেরিনার্স প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বিদ্যানগরে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়িয়ে ২৯ শে জুলাই মোহন বাগান দিবস পালন করল । মোহনবাগান ক্লাবের পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন অধ্যাপক ডঃ শুভ্রাংশু রায়। অমর একাদশের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন অধ্যাপিকা পারমিতা রায়।
এরপর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা গ্রন্থাগারের সহযোগিতায় গ্রন্থাগার সভাগৃহে মোহনবাগান দিবস ও বিদ্যাসাগরের ১৩১ তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় । আয়োজক সংস্থার সভাপতি ডঃ শুভ্রাংশু রায় ও সাংবাদিক-সাহিত্যিক নিশিকান্ত সামন্ত মোহনবাগান ও শীল্ড জয়ের ইতিহাস এবং বিদ্যাসাগরের জীবনাদর্শ বর্ণনা করেন । এছাড়া অধ্যাপিকা পারমিতা রায়, শিশু সাহিত্যিক অবশেষ দাস, সমাজসেবী কমল মণ্ডল প্রমুখ প্রাসঙ্গিক আলোচনা করেন। সাংগঠনিক বিষয়ে আলোকপাত করেন দেবাশিস সামন্ত। সামগ্ৰিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সায়ন ঘোষ ও সৈকত জানা।