Dhaka ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
থাইল্যান্ড ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক হবে বিমসটেকে  আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে : প্রধান উপদেষ্টা ঢাকাসহ ১৫ জেলায় তাপপ্রবাহ, অব্যাহত থাকার আভাস যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে:মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে থাই দুই মন্ত্রীর সাক্ষাৎ এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : শিক্ষাবোর্ড তরুণ প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ ড. ইউনূসের চাঁদাবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বিমসটেক ইয়ং জেন ফোরামে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা বিকেলে বিমসটেক সম্মেলনে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন প্রধান উপদেষ্টা

নিউজিল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ভারত চ্যাম্পিয়ন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
  • ২১ Time View

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

দুবাইয়ে টানা পাঁচ জয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম দল হিসেবে তিনটি শিরোপার রেকর্ড গড়ল ভারত।

একটু একটু করে শেষের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল ম্যাচ। রাভিন্দ্রা জাদেজার বাউন্ডারিতে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দুই হাত উঁচিয়ে ছুটলেন তিনি ক্রিজে সঙ্গী লোকেশ রাহুলের দিকে। ড্রেসিং রুমের সামনে চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠে ব্যাটিং কোচ আভিষেক নায়ারকে জড়িয়ে ধরলেন ভিরাট কোহলি। চওড়া হাসিতে মাঠের দিকে এগোলোন রোহিত শার্মা। যাকে কেউ কখনও হাসতে দেখেননি বলেই শোনা যায়, সেই কোচ গৌতাম গাম্ভিরের ঠোঁটেও দেখা গেল মৃদু হাসি। শ্রেষ্ঠত্বের স্বাদটাই এমন মধুর!

অনুমিত চিত্রনাট্যই যেন অনুসরণ করল ফাইনাল ম্যাচ। ভারতের জার্সি গায়ে দর্শকে ঠাসা গ্যালারি রূপ নিল নীল সমুদ্রে। ২২ গজে আরও একবার স্পিনের ফুল ফোটালেন ভারতীয় স্পিনাররা। নিউ জিল্যান্ডের লড়াই তো প্রত্যাশিতই। ব্যাটে-বলে সহজে হাল ছাড়ল না তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিউইরা তল পেল না ভারতের শক্তি-সামর্থ্যের গভীরতার।

ফেভারিট ভারতই শেষ পর্যন্ত জিতে নিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। নিউ জিল্যান্ডকে চার উইকেটে হারিয়ে রোহিত শার্মার দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো টানা পাঁচ জয়ে।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রোববার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ড ৫০ ওভারে তোলে ২৫১ রান। ভারতের দুই পেসার মিলে ১০ ওভার করে ১০৪ রান দিয়ে উইকেট নেন একটি। কিন্তু চার স্পিনারই ছিলেন দুর্দান্ত।

রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটির শতরানের পর লড়াইয়ে ফেরা কিউইদের হতাশ করে ভারত জিতে যায় এক ওভার বাকি রেখে।

দলের অভিজ্ঞতম পেসার ও এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ম্যাট হেনরিকে চোটের কারণে ফাইনালে পায়নি নিউ জিল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত, রান কিছু কম করার খেসারত দিতে হয়েছে তাদের।

সবশেষ আসরে আট বছর আগে ইংল্যান্ডে রানার্স আপ হয়েছিল ভারত। এবার শিরোপা জিতে তিনটি ট্রফি জয়ের প্রথম নজির গড়ল তারা।

দেশের মাঠে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালের হারের সেই হতাশা হয়তো মুছে যাবে না। তবে গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে সাদা বলের ক্রিকেটে নিজেদের দাপট বুঝিয়ে দিল তারা।

নানা টুর্নামেন্টে সেমি-ফাইনাল আর ফাইনালে বারবার আটকে পড়া নিউ জিল্যান্ডের স্বপ্ন ভঙ্গ হলো আবার।

রান তাড়ায় ভারত উড়ন্ত শুরু পায় রোহিত শার্মার ব্যাটে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ‘ট্রেডমার্ক’ কাইল জেমিসনকে পুল শটে ছক্কায় তিনি পূর্বাভাস দেন। পরে ঝড়ও ওঠে।

তার ছক্কাতেই ৭.২ ওভারে ফিফটি পেরোয় ভারত, এই আসরে যা তাদের দ্রুততম। পাওয়ার প্লে শেষ হতেই ভারতীয় অধিনায়ক ফিফটি স্পর্শ করেন ৪১ বলে। সঙ্গী শুবমান গিলের রান তখন স্রেফ ১০।

রোহিতের ব্যাটের তোড়ে শতরান চলে আসে সপ্তম ওভারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সব আসরের ফাইনাল মিলিয়ে প্রথম শতরানের জুটি এটি।

পানি পানের বিরতির পর ভোজবাজির মতো ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয় কিউইরা। গ্লেন ফিলিপসের আরেকটি অতিমানবীয় ক্যাচ থেকেই বদলানোর শুরু। এই টুর্নামেন্টে আগেও গোটা দুয়েক অবিশ্বাস্য ক্যাচ নেওয়া ফিল্ডার এবার শর্ট কাভারে তেমনই এক ক্যাচ নিয়ে ফেরান গিলকে (৩০)।

এরপর মাইকেল ব্রেসওয়েল বল হাতে নিয়ে প্রথম বলে ফেরান দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভিরাট কোহলিকে (১)।

নিউ জিল্যান্ডের স্পিনাররা এরপর প্রবল চাপে ফেলেন রোহিত ও শ্রেয়াস আইয়ারকে। ফিল্ডিং তো তাদের বরাবরই দুর্দান্ত।

রানের জন্য হাঁসফাঁস করে এক পর্যায়ে ধৈর্য হারিয়ে স্টাম্পড হয়ে যান রোহিত (৮৩ বলে ৭৬)।

১৭ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় ভারত। নিউ জিল্যান্ডের উজ্জীবিত বোলিং-ফিল্ডিংয়ে রান করার পথই পাচ্ছিল না ভারত। তবে লড়াই করে সময়টা পার করে দেন শ্রেয়াস আইয়ার ও আকসার প্যাটেল। এক পর্যাায়ে রান আসতে থাকে সাবলীল গতিতে। রান তাড়া আবারও হয়ে উঠছিল একতরফা।

কিন্তু নিউ জিল্যান্ড লড়াই চালিয়ে যায়। দুটি করে চার ও ছক্কায় ৪৮ রান করা শ্রেয়াসকে থামান কিউই অধিনায়ক স্যান্টনার। ২৯ রানে থাকা আকসার হুট করেই বাজে শটে ক্যাচ দিয়ে বসেন লং অনে।

তবে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ এত লম্বা যে, বড় দুর্ভাবনায় তাদের পড়তে হয়নি। এক পাশে আস্থা হয়ে দলকে এগিয়ে নেন লোকেশ রাহুল। তাকে সঙ্গ দেন হার্দিক পান্ডিয়া। জয়ের কাছে গিয়ে পান্ডিয়া (১৮ বলে ১৮) ফেরেন জেমিসনের দুর্দান্ত বাউন্সে।

বাকি পথটুকু অনায়াসে পাড়ি দেন রাহুল ও জাদেজা।

ভারতের মতো নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের শুরুটাও ছিল ভালো। প্রথম তিন ওভারে রান ছিল ১০। এরপরই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে হার্দিক পান্ডিয়া ও মোহাম্মদ শামির বলে দুর্দান্ত কিছু শট খেলেন রাচিন রাভিন্দ্রা। সপ্তম ওভারে পঞ্চাশ পেরিয়ে যায় দল।

জুটি ভাঙে পরের ওভারেই। ভারুন চক্রবর্তির ডেলিভারিতে বিভ্রান্ত হয়ে এলবিডব্লিউ হন উইল ইয়াং (১৫)। উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ৫৭ রানে।

রাভিন্দ্রা অবশ্য দুই দফায় জীবন পান ২৮ ও ২৯ রানে। তবে এজন্য ভুগতে হয়নি ভারতকে। কুলদিপ ইয়াদাভের জোড়া ছোবল নাড়িয়ে দেয় কিউই ব্যাটিং অর্ডার। আক্রমণে এসেই দুর্দান্ত ডেলিভারিতে রাচিন রাভিন্দ্রাকে (২৯ বলে ৩৭) বোল্ড করে দেন তিনি। পরের ওভারে তাকে আলতো করে খেলে ফিরতি ক্যাচ দেন কেন উইলিয়ামসন (১১)।

ফর্মে থাকা দুই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে কিউই ইনিংসের গতিও হারিয়ে যায় অনেকটা। স্পিনের সামনে বড় ভরসা টম ল্যাথাম (১৪) বিদায় নেন প্রিয় সুইপ শটে।

১০৮ রানে ৪ উইকেট হারানো দলকে এগিয়ে নেন ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস। রানের ভাবনা ভুলে এক প্রান্ত আঁকড়ে রাখেন মিচেল। ফিলিপস চেষ্টা করেন রান বাড়াতে।

২৭তম ওভারে কুলদিপকে যে ছক্কাটি মারেন ফিলিপস, তা ছিল ৮১ বল পর প্রথম বাউন্ডারি।

ফিলিপস অবশ্য থিতু হওয়ার পর বড় করতে পারেননি ইনিংস। ভারুনের লেগ ব্রেক বারবার জায়গা বানিয়ে খেলছিলেন তিনি। একটি বল ভেতরে আনেন এই রহস্য স্পিনার, তাতেই ছত্রখান ফিলিপসের স্টাম্প। ২৭ রানে জীবন পাওয়া ব্যাটসম্যান আউট হন ৩৪ রানে।

জীবন পান মিচেলও। ২৮ রানে তার ক্যাচ নিতে পারেননি রোহিত। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে ফিফটি করেন তিনি ৯১ বলে।

বাউন্ডারি অবশ্য বন্ধ হয়ে যায় আবার। ৬৫ বলের খরা কাটিয়ে অবশেষে বল সীমানা ছাড়ায় মাইকেল ব্রেসওয়েলের বাউন্ডারিতে।

মন্থর ইনিংস খেলা মিচেল পারেননি শেষ দিকে পুষিয়ে দিতে। ৪৬তম ওভারে শামিকে দুটি বাউন্ডারির পর আউট হয়ে যান তিনি (১০১ বলে ৬৩)।

শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার কাজটি কেবল ব্রেসওয়েলই করেন। দারুণ খেলে ৪০ বলে ৫৩ রান করেন এই অলরাউন্ডার। ওয়ানডেতে আগে সেঞ্চুরি ছিল তার, ফিফটি এটিই প্রথম।

শেষ ৮ ওভারে ৭৩ রান তোলে নিউজিল্যান্ড।

তার পরও ইনিংস শেষেই মনে হচ্ছিল, রান কিছুটা কম হয়ে গেছে তাদের। শেষ পর্যন্ত সেটিই সত্যি হয়।

উত্তাল গ্যালারির সামনে ভারতীয় ক্রিকেটাররা যখন মেতে উঠেছেন উল্লাসে, আতশবাজির ঝলকানিতে রঙিন যখন দুবাইয়ের রাতের আকাশ, কিউই ক্রিকেটারদের চোখমুুখে তখন আঁধার, তাদের জার্সির রঙের মতোই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউ জিল‍্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৫১/৭ (ইয়াং ১৫, রাভিন্দ্রা ৩৭, উইলিয়ামসন ১১, মিচেল ৬৩, ল‍্যাথাম ১৪, ফিলিপস ৩৪, ব্রেসওয়েল ৫৩*, স‍্যান্টনার ৮, স্মিথ ০*; শামি ৯-০-৭৪-১, পান্ডিয়া ৩-০-৩০-০, ভারুন ১০-০-৪৫-২, কুলদিপ ১০-০-৪০-২, আকসার ৮-০-২৯-০, জাদেজা ১০-০-৩০-১)

ভারত: ৪৯ ওভারে ২৫৪/৬ (রোহিত ৭৬, গিল ৩০, কোহলি ১, শ্রেয়াস ৪৮, আকসার ২৯, রাহুল ৩৪*, পান্ডিয়া ১৮, জাদেজা ৯*; জেমিসন ৫-০-২৪-১, ও’রোক ৭-০-৫৬-০, স্মিথ ২-০-২২-০, স্যান্টনার ১০-০-৪৬-২, রাভিন্দ্রা ১০-১-৪৭-১ ব্রেসওয়েল ১০-১-২৮-২, ফিলিপস )

ফল: ভারত ৪ উইকেটে জয়ী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Raj Kalam

থাইল্যান্ড ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক হবে বিমসটেকে 

নিউজিল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ভারত চ্যাম্পিয়ন

Update Time : ০৮:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

দুবাইয়ে টানা পাঁচ জয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম দল হিসেবে তিনটি শিরোপার রেকর্ড গড়ল ভারত।

একটু একটু করে শেষের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল ম্যাচ। রাভিন্দ্রা জাদেজার বাউন্ডারিতে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দুই হাত উঁচিয়ে ছুটলেন তিনি ক্রিজে সঙ্গী লোকেশ রাহুলের দিকে। ড্রেসিং রুমের সামনে চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠে ব্যাটিং কোচ আভিষেক নায়ারকে জড়িয়ে ধরলেন ভিরাট কোহলি। চওড়া হাসিতে মাঠের দিকে এগোলোন রোহিত শার্মা। যাকে কেউ কখনও হাসতে দেখেননি বলেই শোনা যায়, সেই কোচ গৌতাম গাম্ভিরের ঠোঁটেও দেখা গেল মৃদু হাসি। শ্রেষ্ঠত্বের স্বাদটাই এমন মধুর!

অনুমিত চিত্রনাট্যই যেন অনুসরণ করল ফাইনাল ম্যাচ। ভারতের জার্সি গায়ে দর্শকে ঠাসা গ্যালারি রূপ নিল নীল সমুদ্রে। ২২ গজে আরও একবার স্পিনের ফুল ফোটালেন ভারতীয় স্পিনাররা। নিউ জিল্যান্ডের লড়াই তো প্রত্যাশিতই। ব্যাটে-বলে সহজে হাল ছাড়ল না তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিউইরা তল পেল না ভারতের শক্তি-সামর্থ্যের গভীরতার।

ফেভারিট ভারতই শেষ পর্যন্ত জিতে নিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। নিউ জিল্যান্ডকে চার উইকেটে হারিয়ে রোহিত শার্মার দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো টানা পাঁচ জয়ে।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রোববার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ড ৫০ ওভারে তোলে ২৫১ রান। ভারতের দুই পেসার মিলে ১০ ওভার করে ১০৪ রান দিয়ে উইকেট নেন একটি। কিন্তু চার স্পিনারই ছিলেন দুর্দান্ত।

রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটির শতরানের পর লড়াইয়ে ফেরা কিউইদের হতাশ করে ভারত জিতে যায় এক ওভার বাকি রেখে।

দলের অভিজ্ঞতম পেসার ও এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ম্যাট হেনরিকে চোটের কারণে ফাইনালে পায়নি নিউ জিল্যান্ড। তবে শেষ পর্যন্ত, রান কিছু কম করার খেসারত দিতে হয়েছে তাদের।

সবশেষ আসরে আট বছর আগে ইংল্যান্ডে রানার্স আপ হয়েছিল ভারত। এবার শিরোপা জিতে তিনটি ট্রফি জয়ের প্রথম নজির গড়ল তারা।

দেশের মাঠে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালের হারের সেই হতাশা হয়তো মুছে যাবে না। তবে গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে সাদা বলের ক্রিকেটে নিজেদের দাপট বুঝিয়ে দিল তারা।

নানা টুর্নামেন্টে সেমি-ফাইনাল আর ফাইনালে বারবার আটকে পড়া নিউ জিল্যান্ডের স্বপ্ন ভঙ্গ হলো আবার।

রান তাড়ায় ভারত উড়ন্ত শুরু পায় রোহিত শার্মার ব্যাটে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ‘ট্রেডমার্ক’ কাইল জেমিসনকে পুল শটে ছক্কায় তিনি পূর্বাভাস দেন। পরে ঝড়ও ওঠে।

তার ছক্কাতেই ৭.২ ওভারে ফিফটি পেরোয় ভারত, এই আসরে যা তাদের দ্রুততম। পাওয়ার প্লে শেষ হতেই ভারতীয় অধিনায়ক ফিফটি স্পর্শ করেন ৪১ বলে। সঙ্গী শুবমান গিলের রান তখন স্রেফ ১০।

রোহিতের ব্যাটের তোড়ে শতরান চলে আসে সপ্তম ওভারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সব আসরের ফাইনাল মিলিয়ে প্রথম শতরানের জুটি এটি।

পানি পানের বিরতির পর ভোজবাজির মতো ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয় কিউইরা। গ্লেন ফিলিপসের আরেকটি অতিমানবীয় ক্যাচ থেকেই বদলানোর শুরু। এই টুর্নামেন্টে আগেও গোটা দুয়েক অবিশ্বাস্য ক্যাচ নেওয়া ফিল্ডার এবার শর্ট কাভারে তেমনই এক ক্যাচ নিয়ে ফেরান গিলকে (৩০)।

এরপর মাইকেল ব্রেসওয়েল বল হাতে নিয়ে প্রথম বলে ফেরান দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভিরাট কোহলিকে (১)।

নিউ জিল্যান্ডের স্পিনাররা এরপর প্রবল চাপে ফেলেন রোহিত ও শ্রেয়াস আইয়ারকে। ফিল্ডিং তো তাদের বরাবরই দুর্দান্ত।

রানের জন্য হাঁসফাঁস করে এক পর্যায়ে ধৈর্য হারিয়ে স্টাম্পড হয়ে যান রোহিত (৮৩ বলে ৭৬)।

১৭ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারায় ভারত। নিউ জিল্যান্ডের উজ্জীবিত বোলিং-ফিল্ডিংয়ে রান করার পথই পাচ্ছিল না ভারত। তবে লড়াই করে সময়টা পার করে দেন শ্রেয়াস আইয়ার ও আকসার প্যাটেল। এক পর্যাায়ে রান আসতে থাকে সাবলীল গতিতে। রান তাড়া আবারও হয়ে উঠছিল একতরফা।

কিন্তু নিউ জিল্যান্ড লড়াই চালিয়ে যায়। দুটি করে চার ও ছক্কায় ৪৮ রান করা শ্রেয়াসকে থামান কিউই অধিনায়ক স্যান্টনার। ২৯ রানে থাকা আকসার হুট করেই বাজে শটে ক্যাচ দিয়ে বসেন লং অনে।

তবে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ এত লম্বা যে, বড় দুর্ভাবনায় তাদের পড়তে হয়নি। এক পাশে আস্থা হয়ে দলকে এগিয়ে নেন লোকেশ রাহুল। তাকে সঙ্গ দেন হার্দিক পান্ডিয়া। জয়ের কাছে গিয়ে পান্ডিয়া (১৮ বলে ১৮) ফেরেন জেমিসনের দুর্দান্ত বাউন্সে।

বাকি পথটুকু অনায়াসে পাড়ি দেন রাহুল ও জাদেজা।

ভারতের মতো নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের শুরুটাও ছিল ভালো। প্রথম তিন ওভারে রান ছিল ১০। এরপরই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে হার্দিক পান্ডিয়া ও মোহাম্মদ শামির বলে দুর্দান্ত কিছু শট খেলেন রাচিন রাভিন্দ্রা। সপ্তম ওভারে পঞ্চাশ পেরিয়ে যায় দল।

জুটি ভাঙে পরের ওভারেই। ভারুন চক্রবর্তির ডেলিভারিতে বিভ্রান্ত হয়ে এলবিডব্লিউ হন উইল ইয়াং (১৫)। উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ৫৭ রানে।

রাভিন্দ্রা অবশ্য দুই দফায় জীবন পান ২৮ ও ২৯ রানে। তবে এজন্য ভুগতে হয়নি ভারতকে। কুলদিপ ইয়াদাভের জোড়া ছোবল নাড়িয়ে দেয় কিউই ব্যাটিং অর্ডার। আক্রমণে এসেই দুর্দান্ত ডেলিভারিতে রাচিন রাভিন্দ্রাকে (২৯ বলে ৩৭) বোল্ড করে দেন তিনি। পরের ওভারে তাকে আলতো করে খেলে ফিরতি ক্যাচ দেন কেন উইলিয়ামসন (১১)।

ফর্মে থাকা দুই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে কিউই ইনিংসের গতিও হারিয়ে যায় অনেকটা। স্পিনের সামনে বড় ভরসা টম ল্যাথাম (১৪) বিদায় নেন প্রিয় সুইপ শটে।

১০৮ রানে ৪ উইকেট হারানো দলকে এগিয়ে নেন ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস। রানের ভাবনা ভুলে এক প্রান্ত আঁকড়ে রাখেন মিচেল। ফিলিপস চেষ্টা করেন রান বাড়াতে।

২৭তম ওভারে কুলদিপকে যে ছক্কাটি মারেন ফিলিপস, তা ছিল ৮১ বল পর প্রথম বাউন্ডারি।

ফিলিপস অবশ্য থিতু হওয়ার পর বড় করতে পারেননি ইনিংস। ভারুনের লেগ ব্রেক বারবার জায়গা বানিয়ে খেলছিলেন তিনি। একটি বল ভেতরে আনেন এই রহস্য স্পিনার, তাতেই ছত্রখান ফিলিপসের স্টাম্প। ২৭ রানে জীবন পাওয়া ব্যাটসম্যান আউট হন ৩৪ রানে।

জীবন পান মিচেলও। ২৮ রানে তার ক্যাচ নিতে পারেননি রোহিত। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে ফিফটি করেন তিনি ৯১ বলে।

বাউন্ডারি অবশ্য বন্ধ হয়ে যায় আবার। ৬৫ বলের খরা কাটিয়ে অবশেষে বল সীমানা ছাড়ায় মাইকেল ব্রেসওয়েলের বাউন্ডারিতে।

মন্থর ইনিংস খেলা মিচেল পারেননি শেষ দিকে পুষিয়ে দিতে। ৪৬তম ওভারে শামিকে দুটি বাউন্ডারির পর আউট হয়ে যান তিনি (১০১ বলে ৬৩)।

শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার কাজটি কেবল ব্রেসওয়েলই করেন। দারুণ খেলে ৪০ বলে ৫৩ রান করেন এই অলরাউন্ডার। ওয়ানডেতে আগে সেঞ্চুরি ছিল তার, ফিফটি এটিই প্রথম।

শেষ ৮ ওভারে ৭৩ রান তোলে নিউজিল্যান্ড।

তার পরও ইনিংস শেষেই মনে হচ্ছিল, রান কিছুটা কম হয়ে গেছে তাদের। শেষ পর্যন্ত সেটিই সত্যি হয়।

উত্তাল গ্যালারির সামনে ভারতীয় ক্রিকেটাররা যখন মেতে উঠেছেন উল্লাসে, আতশবাজির ঝলকানিতে রঙিন যখন দুবাইয়ের রাতের আকাশ, কিউই ক্রিকেটারদের চোখমুুখে তখন আঁধার, তাদের জার্সির রঙের মতোই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউ জিল‍্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৫১/৭ (ইয়াং ১৫, রাভিন্দ্রা ৩৭, উইলিয়ামসন ১১, মিচেল ৬৩, ল‍্যাথাম ১৪, ফিলিপস ৩৪, ব্রেসওয়েল ৫৩*, স‍্যান্টনার ৮, স্মিথ ০*; শামি ৯-০-৭৪-১, পান্ডিয়া ৩-০-৩০-০, ভারুন ১০-০-৪৫-২, কুলদিপ ১০-০-৪০-২, আকসার ৮-০-২৯-০, জাদেজা ১০-০-৩০-১)

ভারত: ৪৯ ওভারে ২৫৪/৬ (রোহিত ৭৬, গিল ৩০, কোহলি ১, শ্রেয়াস ৪৮, আকসার ২৯, রাহুল ৩৪*, পান্ডিয়া ১৮, জাদেজা ৯*; জেমিসন ৫-০-২৪-১, ও’রোক ৭-০-৫৬-০, স্মিথ ২-০-২২-০, স্যান্টনার ১০-০-৪৬-২, রাভিন্দ্রা ১০-১-৪৭-১ ব্রেসওয়েল ১০-১-২৮-২, ফিলিপস )

ফল: ভারত ৪ উইকেটে জয়ী।