Dhaka ০১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দৌলতদিয়া ঘাটে শেষ মুহূর্তে ঢাকামুখী মানুষের ঢল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
  • ১৯ Time View

ঈদের লম্বা ছুটি শেষ করে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল দেখা গেছে। তবে ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রী ও যানবাহন ঘাট পার হয়ে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছেন। শনিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে সারাদিনই ফেরি ও লঞ্চঘটে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড় চোখে পরে।

সরজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন রাখতে বিআইডব্লিউটিএর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। লঞ্চে যাতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা না হয় এ জন্য আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক হ্যান্ড মাইক দিয়ে যাত্রীদের সতর্ক করা হচ্ছে। এদিকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটেও যানবাহনের পাশাপাশি যাত্রীদেরও চাপ দেখা গেছে। সকাল থেকে সারদিনই ঘাট ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ফেরিতে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

ঝিনাইদহ থেকে আসা শরিফুল ইসলাম মিঞা নামের এক যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় ঘাট এলাকায়। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে ঈদ করতে বাড়িতে গিয়েছিলাম। ছুটি শেষ করে এখন কর্মস্থলে ফিরছি। বাড়িতে যাওয়ার সময়ও কোনো ভোগান্তি হয়নি। আবার এখন কর্মস্থলে ফেরার সময়ও কোনো ভোগান্তি নেই। ঘাটে মানুষের চাপ রয়েছে তবে পর্যাপ্ত ফেরিও রয়েছে। এবারের ঈদ যাত্রা অনেক ভালো হয়েছে।

ফরিদপুরের মধুখালি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে সাভার যাচ্ছেন ইদ্রিস মিয়া। তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে অফিস শুরু হবে। তাই ছুটি শেষ করে আজই ফিরতে হচ্ছে। আগামীকাল থেকে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস শুরু হবে বিধায় সবাই তাদের কর্মস্থলে যাচ্ছেন। তবে আমার ঘাট পর্যন্ত আসতে কোনো ঝামেলা হয়নি। প্রখর রোদ ও গরমে একটু কষ্ট হচ্ছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে ঈদের বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে কাজের তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক (বন্দর) মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদের লম্বা ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ পুরোদমে ছুটছে। বিশেষ করে আজ সকাল থেকে মানুষের চাপ পড়েছে ঘাটে। তাই ছোট-বড় ৩২টি লঞ্চের মধ্যে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপথে বর্তমানে ২২টি লঞ্চ চলাচল করছে। প্রয়োজনে আরও লঞ্চ বাড়ানো হবে।

এদিকে যাত্রীদের নিরাপদে পারাপার নিশ্চিত করতে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন মাস্টার মো. আব্দুর রহমান বলেন, ঈদের আগে গত ২৭ মার্চ থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা ৮ সদস্যের একটি টিম কাজ করে যাচ্ছে ঘাট এলাকায়।

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ঈদে যানবাহন এবং যাত্রী পারাপারের জন্য ছোট-বড় ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। আগামীকাল থেকে অফিস খুলবে তাই ঘাটে কর্মস্থলে ফেলে মানুষের চাপ পড়েছে। তবে ঘাট এলাকায় কোনো ভোগান্তি নেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Raj Kalam

Popular Post

দৌলতদিয়া ঘাটে শেষ মুহূর্তে ঢাকামুখী মানুষের ঢল

Update Time : ০২:০২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

ঈদের লম্বা ছুটি শেষ করে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল দেখা গেছে। তবে ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রী ও যানবাহন ঘাট পার হয়ে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছেন। শনিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে সারাদিনই ফেরি ও লঞ্চঘটে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড় চোখে পরে।

সরজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী পারাপার নির্বিঘ্ন রাখতে বিআইডব্লিউটিএর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। লঞ্চে যাতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা না হয় এ জন্য আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক হ্যান্ড মাইক দিয়ে যাত্রীদের সতর্ক করা হচ্ছে। এদিকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটেও যানবাহনের পাশাপাশি যাত্রীদেরও চাপ দেখা গেছে। সকাল থেকে সারদিনই ঘাট ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ফেরিতে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

ঝিনাইদহ থেকে আসা শরিফুল ইসলাম মিঞা নামের এক যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় ঘাট এলাকায়। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে ঈদ করতে বাড়িতে গিয়েছিলাম। ছুটি শেষ করে এখন কর্মস্থলে ফিরছি। বাড়িতে যাওয়ার সময়ও কোনো ভোগান্তি হয়নি। আবার এখন কর্মস্থলে ফেরার সময়ও কোনো ভোগান্তি নেই। ঘাটে মানুষের চাপ রয়েছে তবে পর্যাপ্ত ফেরিও রয়েছে। এবারের ঈদ যাত্রা অনেক ভালো হয়েছে।

ফরিদপুরের মধুখালি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে সাভার যাচ্ছেন ইদ্রিস মিয়া। তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে অফিস শুরু হবে। তাই ছুটি শেষ করে আজই ফিরতে হচ্ছে। আগামীকাল থেকে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস শুরু হবে বিধায় সবাই তাদের কর্মস্থলে যাচ্ছেন। তবে আমার ঘাট পর্যন্ত আসতে কোনো ঝামেলা হয়নি। প্রখর রোদ ও গরমে একটু কষ্ট হচ্ছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে ঈদের বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে কাজের তদারকি করছেন বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক (বন্দর) মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদের লম্বা ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ পুরোদমে ছুটছে। বিশেষ করে আজ সকাল থেকে মানুষের চাপ পড়েছে ঘাটে। তাই ছোট-বড় ৩২টি লঞ্চের মধ্যে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপথে বর্তমানে ২২টি লঞ্চ চলাচল করছে। প্রয়োজনে আরও লঞ্চ বাড়ানো হবে।

এদিকে যাত্রীদের নিরাপদে পারাপার নিশ্চিত করতে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন মাস্টার মো. আব্দুর রহমান বলেন, ঈদের আগে গত ২৭ মার্চ থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা ৮ সদস্যের একটি টিম কাজ করে যাচ্ছে ঘাট এলাকায়।

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ঈদে যানবাহন এবং যাত্রী পারাপারের জন্য ছোট-বড় ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। আগামীকাল থেকে অফিস খুলবে তাই ঘাটে কর্মস্থলে ফেলে মানুষের চাপ পড়েছে। তবে ঘাট এলাকায় কোনো ভোগান্তি নেই।