Dhaka ০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

একজন শুদ্ধাচার মানুষের কথোপকথনে যে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১
  • ১৫৬ Time View

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

শুদ্ধাচার ভালো মানুষের ভূষণ। শুদ্ধাচারী মানুষই ভালো মানুষ। আসলে যা-কিছু ভালো, যা-কিছু কল্যাণকর তা-ই শুদ্ধ। যা-কিছু মন্দ, যা-কিছু অকল্যাণকর তা-ই অশুদ্ধ। যা-কিছু সত্য, সুন্দর ও শুভ তা-ই শুদ্ধ। যা-কিছু অসত্য, পঙ্কিল ও অশুভ তা-ই অশুদ্ধ। যা-কিছু ন্যায় ও মানবিক তা-ই শুদ্ধ। যা-কিছু অন্যায়, জুলুম ও অমানবিক তা-ই অশুদ্ধ। সন্তানকে শুদ্ধাচারী আলোকিত মানুষ করতে হলে আপনাকে জানতে হবে ভালো-মন্দ সম্পর্কে, ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে, করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে। নৈতিকতার কষ্টিপাথরে যাচাই করে নিতে হবে প্রতিটি কথা ও কাজকে।

একজন শুদ্ধাচার মানুষের কথোপকথনে ২৫ শিষ্টাচার-

১. কারো কথা শোনার সময় আন্তরিক ও মনোযোগী হোন।

২. ধীরে, স্পষ্টভাবে, শুদ্ধ ভাষায় এবং পরিমিত স্বরে কথা বলুন।

৩. কাকে কোথায় কীভাবে কতটুকু কথা কার সামনে বলছেন তা খেয়াল রাখুন। বলার ক্ষেত্রে কুশলী হোন।

৪. গায়ের জোরে নিজের মত ও সিদ্ধামত্ম চাপিয়ে দিতে যাবেন না।

৫. প্রত্যেককে সম্মানসূচক সম্বোধনসহ অর্থবহ ভালো নামে ডাকুন। আলাপচারিতায় একাধিকবার নাম উল্লেখ করুন।

৬. বয়স এবং সম্পর্কের ধরন যেমনই হোক,সবচেয়ে সুন্দর ও নিরাপদ সম্বোধন হচ্ছে ‘আপনি’।

৭. আগ বাড়িয়ে বলার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

৮. অনুমতি ছাড়া অন্যকে করা প্রশ্নের উত্তর নিজে দেবেন না।

৯. দুজনের কথার মাঝে কথা বলবেন না। কখনো বলে ফেললে ‘দুঃখিত’ বলুন।

১০. কারো কথা শোনার সময় অকারণে এদিক-ওদিক/মোবাইল স্ক্রিনের দিকে না তাকিয়ে তার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিন।

১১. আলাপ-আলোচনার মাঝখানে ওঠার প্রয়োজন হলে অনুমতি নিয়ে উঠুন।

১২. বুঝতে বা শুনতে অসুবিধা হলে ‘হুঁ/ অ্যাঁ/কী’ জাতীয় শব্দ না করে বলুন : জ্বী/দুঃখিত/দয়া করে আবার বলুন।

১৩. গুজব ও কানকথায় কান দেবেন না। যারা কানকথা ছড়ায় তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

১৪. একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় প্রত্যেকের দিকেই মাঝে মাঝে তাকান। তবে কারো দিকে অপলক তাকিয়ে থাকবেন না।

১৫. বাহুল্য কথা বর্জন করুন। অপ্রাসঙ্গিক ও অহেতুক কথাবার্তা আপনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে।

১৬. অপরপক্ষকে তার বক্তব্য শেষ করতে দিন। তারপর আপনি বলুন।

১৭. কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে সঙ্গত কারণ ছাড়া নীরব থাকবেন না। এতে তাকে অবজ্ঞা করা হয়। কিছু না বললেও স্মিত হাসুন।

১৮. বাস্তব কারণে কখনো সত্য বলতে না পারলেও অহেতুক মিথ্যা বলবেন না। নীরব থাকুন।

১৯. কথায় কথায় শপথ করা, কসম কাটা বা অভিশাপ দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

২০. বয়োজ্যেষ্ঠ কারো সাথে কথা বলার সময় তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে আপনিও দাঁড়ান। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও মুখভঙ্গিতে বিনয় প্রকাশ করুন।

২১. মুখের কাছে মুখ নিয়ে, গায়ে হাত দিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

২২. জনসমক্ষে নিজের গুরুত্ব জাহির করার উদ্দেশ্যে আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কানে কানে কথা বলবেন না।

২৩. অপ্রাসঙ্গিক ও অর্থহীন কথাবার্তা, আলাপ, আড্ডা এড়িয়ে চলুন। আপনার সময় ব্যয় করুন আপনার রুটিন অনুসারে।

২৪. অপরিচিত কারো সঙ্গে কথা বলার সময় বোঝার চেষ্টা করুন- তিনি আপনার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী কিনা।

২৫. ধর্মগ্রন্থ থেকে কোনো বাণী উদ্ধৃত করলে তার সুনির্দিষ্ট রেফারেন্স উল্লেখ করুন। কোরআনের বাণীকে ‘হাদীসে আছে’ অথবা হাদীসকে ‘কোরআনে আছে’-এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Raj Kalam

একজন শুদ্ধাচার মানুষের কথোপকথনে যে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়

Update Time : ০২:২১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

শুদ্ধাচার ভালো মানুষের ভূষণ। শুদ্ধাচারী মানুষই ভালো মানুষ। আসলে যা-কিছু ভালো, যা-কিছু কল্যাণকর তা-ই শুদ্ধ। যা-কিছু মন্দ, যা-কিছু অকল্যাণকর তা-ই অশুদ্ধ। যা-কিছু সত্য, সুন্দর ও শুভ তা-ই শুদ্ধ। যা-কিছু অসত্য, পঙ্কিল ও অশুভ তা-ই অশুদ্ধ। যা-কিছু ন্যায় ও মানবিক তা-ই শুদ্ধ। যা-কিছু অন্যায়, জুলুম ও অমানবিক তা-ই অশুদ্ধ। সন্তানকে শুদ্ধাচারী আলোকিত মানুষ করতে হলে আপনাকে জানতে হবে ভালো-মন্দ সম্পর্কে, ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে, করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে। নৈতিকতার কষ্টিপাথরে যাচাই করে নিতে হবে প্রতিটি কথা ও কাজকে।

একজন শুদ্ধাচার মানুষের কথোপকথনে ২৫ শিষ্টাচার-

১. কারো কথা শোনার সময় আন্তরিক ও মনোযোগী হোন।

২. ধীরে, স্পষ্টভাবে, শুদ্ধ ভাষায় এবং পরিমিত স্বরে কথা বলুন।

৩. কাকে কোথায় কীভাবে কতটুকু কথা কার সামনে বলছেন তা খেয়াল রাখুন। বলার ক্ষেত্রে কুশলী হোন।

৪. গায়ের জোরে নিজের মত ও সিদ্ধামত্ম চাপিয়ে দিতে যাবেন না।

৫. প্রত্যেককে সম্মানসূচক সম্বোধনসহ অর্থবহ ভালো নামে ডাকুন। আলাপচারিতায় একাধিকবার নাম উল্লেখ করুন।

৬. বয়স এবং সম্পর্কের ধরন যেমনই হোক,সবচেয়ে সুন্দর ও নিরাপদ সম্বোধন হচ্ছে ‘আপনি’।

৭. আগ বাড়িয়ে বলার অভ্যাস ত্যাগ করুন।

৮. অনুমতি ছাড়া অন্যকে করা প্রশ্নের উত্তর নিজে দেবেন না।

৯. দুজনের কথার মাঝে কথা বলবেন না। কখনো বলে ফেললে ‘দুঃখিত’ বলুন।

১০. কারো কথা শোনার সময় অকারণে এদিক-ওদিক/মোবাইল স্ক্রিনের দিকে না তাকিয়ে তার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিন।

১১. আলাপ-আলোচনার মাঝখানে ওঠার প্রয়োজন হলে অনুমতি নিয়ে উঠুন।

১২. বুঝতে বা শুনতে অসুবিধা হলে ‘হুঁ/ অ্যাঁ/কী’ জাতীয় শব্দ না করে বলুন : জ্বী/দুঃখিত/দয়া করে আবার বলুন।

১৩. গুজব ও কানকথায় কান দেবেন না। যারা কানকথা ছড়ায় তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

১৪. একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় প্রত্যেকের দিকেই মাঝে মাঝে তাকান। তবে কারো দিকে অপলক তাকিয়ে থাকবেন না।

১৫. বাহুল্য কথা বর্জন করুন। অপ্রাসঙ্গিক ও অহেতুক কথাবার্তা আপনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে।

১৬. অপরপক্ষকে তার বক্তব্য শেষ করতে দিন। তারপর আপনি বলুন।

১৭. কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে সঙ্গত কারণ ছাড়া নীরব থাকবেন না। এতে তাকে অবজ্ঞা করা হয়। কিছু না বললেও স্মিত হাসুন।

১৮. বাস্তব কারণে কখনো সত্য বলতে না পারলেও অহেতুক মিথ্যা বলবেন না। নীরব থাকুন।

১৯. কথায় কথায় শপথ করা, কসম কাটা বা অভিশাপ দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

২০. বয়োজ্যেষ্ঠ কারো সাথে কথা বলার সময় তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে আপনিও দাঁড়ান। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও মুখভঙ্গিতে বিনয় প্রকাশ করুন।

২১. মুখের কাছে মুখ নিয়ে, গায়ে হাত দিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

২২. জনসমক্ষে নিজের গুরুত্ব জাহির করার উদ্দেশ্যে আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কানে কানে কথা বলবেন না।

২৩. অপ্রাসঙ্গিক ও অর্থহীন কথাবার্তা, আলাপ, আড্ডা এড়িয়ে চলুন। আপনার সময় ব্যয় করুন আপনার রুটিন অনুসারে।

২৪. অপরিচিত কারো সঙ্গে কথা বলার সময় বোঝার চেষ্টা করুন- তিনি আপনার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী কিনা।

২৫. ধর্মগ্রন্থ থেকে কোনো বাণী উদ্ধৃত করলে তার সুনির্দিষ্ট রেফারেন্স উল্লেখ করুন। কোরআনের বাণীকে ‘হাদীসে আছে’ অথবা হাদীসকে ‘কোরআনে আছে’-এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।